আরো কিছু ভুল ধারনা

গত পর্বে শুরু করেছিলাম মি: কুসচে এর বক্তব্য। যার মতে বারমুডা রহস্যের অধিকাংশই হয় মনগড়া অথবা সঠিক তদন্ত না হওয়ার কারণে বিনা করনে জল ঘোলা হয়েছে।

গত পর্বে বলেছিলাম হারিয়ে যাওয়া বিমান গুলো সম্পর্কে কুসচের মন্তব্য। আজ লিখব হারিয়ে যাওয়া জাহাজগুলো সম্পর্কে তার বক্তব্য নিয়ে।

Rosini (রোসিনি)

প্রথমেই আসি বাহামার অন্তর্গত ‘ন্যাসো’ বন্দরের কাছাকাছি পাওয়া যাওয়া একটি জাহাজের ঘটনায়। ১৮৪০ সালে পাওয়া যায় এটি যার নাম “রোজিনি।” তবে এটার নাম নিয়েই আছে যত গণ্ডগোল। কাগজে কলমে Rosini (রোসিনি) আরেকটি জাহাজ ছিল যা বাহামায় আটকে পড়েছিল তাই সমস্ত মালপত্রসহ যাত্রীদের স্থানান্তরিত করা হয়। রোজিনি কেও পাওয়া গেছে জনমানব শূন্য আজব ভাবে ভাসমান অবস্থায়।

ইতিহাস বলে রোসিনি এর আটকে পড়া ও যাত্রী স্থানান্তর খুবই সাধারণ, কিন্তু রোজিনি এর খুঁজে পাওয়া রহস্যজনক। কিন্তু কুসচে বলেন, রোজিনি আর রোসিনি দুটো একই। যুক্তি? দুটো একই জায়গায় আটকে গিয়েছিল, একই রুটে। তবে সবচেয়ে বড় যুক্তি হল, ইংরেজি বানান Rosini-এর ভ এর উচ্চারণ কোন কোন অঞ্চলে জ এর মত উচ্চারিত হয়। এই জন্য রোসিনি হয়ে গেছে রোজিনি। তাতেই এত রহস্যের সূত্রপাত।

মেরি সিলেষ্ট (Mary Celeste)

রহস্যজনক ভাবে খুঁজে পাওয়া জাহাজগুলোর মধ্যে অন্যতম “মেরি সিলেষ্ট।” কুসচে সন্দেহ করেছিলেম আসল কারসাজিটা ক্যাপ্টেন মূর হাউসের। পরিকল্পিতভাবে তিনি হত্যা করে ফেলে দিয়েছিলেন গুটিকয়েক বাদে সব যাত্রীদের। তারপর জাহাজ মাঝ সমুদ্রে ফেলে চলে আসেন। তবে এর পক্ষে কোনও শক্ত যুক্তি তিনি দেখাতে পারেন নি।

USS Cyclops

১ম মহাযুদ্ধের সময় বেশ রহস্য সৃষ্টি করেই বেমালুম গায়েব হয়ে যাওয়া “USS Cyclops”-এর জন্য সাধারণ মানুষ পরোক্ষভাবে দায়ী করে বারমুডাকে। কিন্তু “US Naval Inteligence” বলে ভিন্ন কথা। তাদের মতে জাহাজটি হারিয়ে যাওয়ার পিছনে যে কারণগুলো হতে পারে তা হল:

  1.  যুদ্ধকালীন সময়ে হয়তো বিদ্রোহ করেছিল জাহাজের নাবিকেরা
  2.  মার্কিন বাহিনীর সদস্য হলেও দু একজন জার্মান সমর্থক ছিলেন ঐ জাহাজে। জার্মানদের হাতে তারাই তুলে দিতে পারেন জাহাজখানা
  3.  জাহাজটির ক্যাপ্টেন “ওরহি”(Orhee)-এর জন্মস্থান জার্মানি। সুতরাং যুদ্ধক্ষেত্রে তার মাতৃভূমির প্রতি দেশপ্রেম জেগে ওঠাটা বিচিত্র কিছু নয়।
  4.  জার্মান সাবমেরিন গুলোর টর্পেডোর আঘাতের স্বীকার হতে পারে।
  5. ম্যাঙ্গানিজ ভর্তি ছিলো সাইক্লোপস। অসাবধানতাবশত আগুন লেগে বিস্ফোরিত হয়ে যাওয়াটা অবাস্তব কিছু না।

তবে এগুলোর স্বপক্ষে তেমন কোন যুক্তি ছিল না।

১৯৬৮ সালে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া সাবমেরিন “স্করপিয়ন” খুঁজতে “মরফোক” বন্দরের সত্তর মাইল পূর্বে ডুবুরি নামানো হয়। ডিন হাস নামে এক অভিজ্ঞ ডুবুরি ছিলেন। সাগরে ১৮০ ফুট গভীরে পুরানো কাঠামোর এক জাহাজ দেখতে পান তিনি। উপরে এসে সবাইকে জানানো হল। পুরানো বড় বড় জাহাজের ছবি দেখানো হলে একটা জাহাজের ছবি চেনা চেনা মনে হল তার। ছবিটি ছিল সাইক্লোপসের। কুসচে এর মতে ডিন হাস-এর দেখা জাহাজটি তুলে আনলেই সমাধান হয়ে যাবে সব রহস্যের।

এরকম বেশ কিছু রহস্যের সমাধানের চেষ্টা করেছেন কুসচে। কিন্তু যেগুলো সেগুলো বাদে অন্যগুলো তেমন যুক্তিপূর্ণ নয়। সত্যি কথা বলতে রহস্যময় বারমুডার(Bermuda Triangle) রহস্যের শেষ নেই।

পরের পর্বে  আবার দেখা হবে। ভালো থাকবেন সবাই………

পরবর্তি ও পুর্ববর্তি বারমুডার সকল পর্ব এখানেঃ

[পর্ব-১: বার মুডা কি, সীমানা, কীভাবে গ্রাস করে বার মুডা]
[পর্ব-২: হতভাগ্য কয়েকটি জাহাজ]
[পর্ব-৩: আজব ভাবে নিখোঁজ জাহাজ ও বিমান, কেন এই অন্তর্ধান, সম্ভাব্য কারণ]
[পর্ব-৪: কে বা কারা এর পিছনে, Alien বা অন্য কেউ?]
[পর্ব-৫: বার মুডা র হস্যে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ড]
[পর্ব-৬: টাইম ট্রাভেল, টাইম মেশিন, ভবিষ্যতের মানুষরা]
[পর্ব-৭: ১ম বিশ্বের দেশ সমূহের প্রভাব, রহসের জন্য দায়ী দেশসমূহ]
[পর্ব-৮: বার মুডা র হস্যে কুসচের বক্তব্য]
[পর্ব -৯: আরো কিছু ভুল ধারনা]
[পর্ব-১০: শেষ চিঠি]